বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার জন্য সরকারি বরাদ্দ ১৮ টন চাল
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২০৯ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের ১৪ ইউনিয়েন শতাধিক গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবারের লোকজন পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে। ইতিমধ্যে বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার প্রায় ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। অর্ধ দিবস বন্ধ রয়েছে আরও ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার্তদের মধ্যে দেখা দিয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহীত রোগে। বুধবার দুপুরে ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের বন্যার্তদের মধ্যে সরকারি ভাবে বরাদ্ধকৃত চাল বিতরণ করা হলেও অধিকাংশ বন্যা কবলিত এলাকায় এখনও পৌছায়নি সরকারি বা বেসরকারী কোনো ত্রানসামগ্রী। ফলে বন্যা কবলিত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে আহাকার বেড়েই চলেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বন্যা কবলিতরা দিক বেদিক ছোটাছোটি করছে। ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত একাধিক পরিবার অন্যেও বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। খোলা হচ্ছে না বন্যার্তদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। বালাগঞ্জের পূর্ব পৈলনপুর, ,পশ্চিম পৈলনপুর, উমরপুর,গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের বেশীর ভাগ গ্রাম পানির নীচে থাকলেও কোনো প্রকার ত্রান দূর্গতদের মধ্যে পৌঁছায়নি। অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসলেও পানীয় জলের অভাব ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাসের কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরকে বন্যা দূর্গত এলাকা ঘোষণা দাবী জানানো হলেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সেক্ষেত্রে আন্তরিক ভূমিকা রাখছেন না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা ও ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে সরকারিভাবে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরে ১৪টি ইউনিয়নে জন্য ৯টন করে ১৮টন চাউল বরাদ্দ এসেছে। বুধবার সিলেট ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ৩টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। দ্রুত অন্যান্য বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রান সামগ্রী পৌছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ত্রাণ বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক মিরাজুল ইসলাম উকিল, স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শওকত আলী।
এদিকে,উপজেলার ভাগলপুর সরকারী প্রাথমিক লামাতাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দিকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরিকোনা সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ কালনীচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শাহজালালল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অর্ধশতাধিক মসজিদ বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় আরও অর্ধশতাধিক বিদ্যালয়ের অর্ধ দিবস করে চলছে পাঠদান। অনেক বিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
বালাগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মতিন বলেন, এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বন্যার্তদের সাহায্যের ব্যাপারে প্রশাসনকে অবগত করেছি।
পশ্চিম গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জানান, যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০০৪ সালের বন্যায় রুপ নিতে পারে এ চিন্তায় আছি। ইউনিয়নের ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করছে। কোনো রাস্তাঘাট শুকনো নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে ১৪টি ইউনিয়নে ১৮টন চাউল বরাদ্দ এসেছে। আজ (বুধবার) থেকে বন্যা কবলিতদের মধ্যে বরাদ্ধকৃত চাল বিতরন চলছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন,পানির কারনে প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বদ্ধ রয়েছে। এছাড়াও একাধিক বিদ্যালয় পানি বন্দি হয়ে যাওয়ায় অনান্য ক্লাসের ছুটি ঘোষনা দিয়ে শুধু মাত্র পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন,ওসমানীনগর উপজেলায় ইতিমধ্যে ৯টন চাল বরাদ্ধ এসেছে। মাননীয় জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সাদিপুর ইউনিয়নের বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে আজ (বুধবার) তিনটন চাল বিতরণ করা হয়েছে।


