বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ : ১৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং, ৪:০১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৮০৪ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের ১৪ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলায় দিন-দিন শুধু পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা বেড়ে চলছে। বানবাসী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে সীমাহীন দূর্ভোগ। ইতিমধ্যে বন্যার কারনে বন্ধ হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বালাগঞ্জ সদও বাজার, পুরাতন থানা ভবন, হাসপাতাল রোড সহ বিভিন্ন এলাকা রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বালাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ভবন এলাকায়ও বন্যায় পানিতে নিমজ্জিত এছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার বাসার চারিদিক বন্যায় পানিতে প্লাবিত হওয়ায় উপক্রম হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিস সুত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে দুই উপজেলায় ১৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ মেডিক্যাল টিম রয়েছে। খাবার স্যালাইন সহ বিশুদ্বকরন ট্যাবলেটসহ প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ মজুদ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি সূত্রে জানাগেছে, বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে এবার লক্ষমাত্রা ছিল রোপা আমন ১৫ হাজার হেক্টর তার সাড়ে ১১ হাজার রোপন করা হয়েছে। পুরোপুরি পানিতে নিমজ্জিত আড়াই হাজার হেক্টর, আংশিক ৩ হাজার হেক্টর ফসল বন্যার পারি নীচে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো আমিনুর রহমান জানান, দুই উপজেলার ৮০ভাগ পুকুরই পানিতে ডুবে গেছে। ৫০ একর জলাশয় পানির নীচে তার মধ্যে ১৩০টি মৎস্য খামার পানির নীচে রয়েছে । উপজেলা মৎস্য অফিসের চারিপাশ পানিতে নিমজ্জিত এখানে পোনা মাছ দেখা যায়।
বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো: জাহিদুল ইসলাম জানান,বন্যার পানিতে গ্রামীন রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা গুলোর চুড়ান্ত তালিকা প্রন্তুত করা হচ্ছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান জানান,বন্যার পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বরাদ্দকৃত জেলা প্রশাসন থেকে ৯টন চাল ৬টি ইউনিয়নে বন্টন করা হয়েছে ।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদাল মিয়া বলেন,গত ৩দিন ধরে বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর দেওয়ানবাজার ,বোয়ালজুর, পুর্ব পৈলনপুর, বালাগঞ্জ ইউনিয়ন বেশ গ্রাম পরিদর্শন করে বন্যার্তদের খোজ খবর নেই এবং আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সামান্য পরিমান অর্থ প্রদান করছি। পাশাপাশি সরকারী যে সাহায্য এসেছে তা ইউনিয়নে বন্টন করা হয়েছে। যে ভাবে পানিবৃদ্বি পাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন,পানির কারনে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বদ্ধ রয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন,ওসমানীনগর উপজেলায় ইতিমধ্যে ৯টন চাল বরাদ্ধ এসেছে। বন্যা কবলিতদের মধ্যে দ্রুত চাল বিতরণ করা হচ্ছে।


