বিশ্বনাথ বাওনপুর ও সিলেট সদর মিরেরগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৫০ (আপডেট)
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৬:১১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৬৮০ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: বিশ্বনাথে পূর্ব বিরোধদের জের ধরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অনন্ত ৫০জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার বেলা ২টায় বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের বাওনপুর ও সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মিরেরগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে মিরেরগাঁও এবং বাওনপুর গ্রামের মধ্যখানে এ ঘটনা ঘটে। বাওনপুর গ্রামের আহতরা হলেন- ফারুক মিয়া, আবু সুফিয়ান, আগুর মিয়া, মনির মিয়া, কামাল আহমদ, আনা মিয়া, গিয়াস, সুনাই মিয়া, কলমদর আলী, জসিম উদ্দিন, লায়েক মিয়া, ওদুদ মিয়া, জুবেল আহমদ, সুরুজ আলী, গরিব আলী, শাহিন মিয়া, মৌরশ মিয়া, কাপ্তান আলী, হারিছ আলী, ইব্রাহিম আলী, তারিজ আলী ও মিরেরগাঁও গ্রামের আহতরা হলেন আবদুল আজিজ, এমরান, চান মিয়া, মঈনুল, কাচা, শফিক, মোস্তফা, লালা, আমির, কাচা মিয়া, নুরুল আমিন।
এরই মধ্যে গুরুতর আহতদের সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। খবর পেয়ে সিলেট জালালাবাদ ও বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ঘন্টাখানিক চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এসময় জালালবাদ থানা পুলিশ ৪০ রাউন্ড র্শট গানের গুলি ও ১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
খবর পেয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। তবে এলাকাবাসী ও পুলিশের জন্য বড় ধরনের সংর্ঘষের থেকে রক্ষা পায় ওই দুই গ্রামবাসী।
জানাগেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার বাওনপুর গ্রামবাসী ও সিলেট সদর উপজেলার মিরেরগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে পূর্ব বিরোধদের জের ধরে শুক্রবার রাতে বাওনপুর গ্রামের ফেরদৌস মিয়াকে মিরেরগাঁও গ্রামবাসী আটক করে রাখে। পরে রাতে তাদের হাত থেকে ফেরদৌস রক্ষা পায়। শনিবার বাওনপুর গ্রামবাসী মিরেরগাঁও গ্রামের কালা মিয়াকে ধরে নিয়ে আসে। এতে মিরেরগাঁও গ্রামবাসী কালা মিয়াকে বাওনপুর গ্রামবাসী কাছ থেকে নিতে আসে। এনিয়ে উভয় গ্রামবাসীর মধ্যে কথাকাটাটি শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে দেশী-অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রামবাসী সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের ৫০জন আহত হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আপোষ-মিমাংশার চেষ্টা চলছে বলে এলাকাবাসী জানান।
এব্যাপারে বাওনপুর গ্রামের মঈনুল হক বলেন, মিরেরগাঁও লোকজন হঠাৎ করে আমাদের গ্রামে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজনকে গ্রামবাসী প্রতিহত করেন। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
মিরেরগাঁও গ্রামের তেরা মিয়া মেম্বার বলেন, বাওনপুর গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের একজন মানুষ ও কয়েকটি গরু নিয়ে যায়। এর কারণ জানতে চাইলে তাদের সাথে গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে তাদের গ্রামের ২০/২৫জন আহত হন বলে তিনি জানান। তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি রফিকুল হোসেন বলেন, বতর্মানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৪০ রাউন্ড র্শট গানের গুলি ও ১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক বলেন, উভয় পক্ষের লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি সমঝেতার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।


