বিশ্বনাথে সুজিনা হত্যাকাণ্ড, গ্রেফতার হয়নি প্রধান আসামী
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ আগস্ট ২০১৫ ইং, ১২:১৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৯০ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেটের বিশ্বনাথে আত্মীয়বেশী ঘাতকদের হাতে খুন হওয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসীর দ্বিতীয় স্ত্রী সুজিনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সতিনের সৎভাই জুনাব আলীকে আজও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার ১৬দিন অতিবাহিত হলেও সে রয়েছে পুলিশের ধরাছোয়ার বাহিরে। তবে পুলিশ বলছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খুনের ঘটনায় প্রবাসীর প্রথম স্ত্রী নিহত সুজিনার সতিন সাবিনা বেগমসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে ২১ জুলাই নিহত সুজিনার মামা ক্বারী আবদুন নুর বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আর ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় নিহত সুজিনার সতিন (প্রবাসীর প্রথম স্ত্রী) সাবিনার সৎভাই ডাকাত সর্দার জুনাব আলীকে।
মামলা দায়েরের পর সুজিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হয় গয়াছ মিয়া নামের এক ঘাতক। সে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসী গ্রামের মৃত জহির উল্লার পুত্র। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছোরাও উদ্ধার করে পুলিশ। গয়াছের স্বীকারোক্তিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ভোরে সজলু মিয়া নামের আরেকজনকে জগন্নাথপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ঘাতক গয়াছ মিয়াকে নিহত সুজিনার মা রেজিয়া বেগম ও ছোট ভাই জহির উদ্দিনের সামনে নেয়া হলে তারা তাকে চার ঘাতকের একজন হিসেবে শনাক্ত করেন।
পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গয়াছ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হয়। আদালতে জবানবন্দীতে গয়াছ জানায়, প্রবাসী মুরাদ আহমদের প্রথম স্ত্রী সাবিনা বেগমের নির্দেশে তার সৎভাই ডাকাত সর্দার জুনাব আলী সুজিনাকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। ৬ লক্ষ টাকার চুক্তিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জানায় গয়াছ।
জবানবন্দীতে গয়াছ আরো জানায়, ওই দিন সুজিনার বাড়ির ভিতরে সে এবং প্রধান আসামি ডাকাত সর্দার জুনাব আলী, সজলু ও আওলাদ প্রবেশ করে। বাইরে ছিল আরো ৩ জন।
সুজিনা তাদেরকে একটি রুমে বসিয়ে রান্না ঘরে যায়। এ সময় প্রধান আসামি জুনাব আলী, সজলু ও আওলাদ রান্না ঘরে গিয়ে সুজিনাকে ছুরি দিয়ে কুপায়। এবং সে সুজিনার মাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। চার ঘাতকের একজন গ্রেফতার হওয়া গয়াছ মিয়ার স্বীকারোক্তিতে প্রবাসীর প্রথম স্ত্রী (সতিন) সাবিনার সৎভাই মামলার প্রধান আসামি জুনাব আলীর নাম প্রকাশ হলেও আজ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সুন্দর আলীর কন্যা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবিনা বেগমের সাথে প্রায় ১৪ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী শ্রীরামসি সাতহাল গ্রামের মুরাদ হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের পরিবারে জন্ম নেয় ৩টি সন্তান। বিয়ের প্রায় ৫ বছর পর থেকে সাবিনা-মুরাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় মনোমালিন্য। এক পর্যায়ে পৃথকভাবে বসবাস শুরু করেন সাবিনা ও মুরাদ। প্রায় ৪/৫মাস পূর্বে দেশে এসে সুজিনাকে বিয়ে করেন মুরাদ। আর এই বিয়ে কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি মুরাদের প্রথম স্ত্রী সাবিনা। মুরাদ বিয়ে করে লন্ডন চলে যাবার পর দেশে আসেন সাবিনাও। এ সময় মুরাদ-সুজিনার বিয়ে ভেঙ্গে দিতে মুরাদের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করেন সাবিনা। প্রায় এক মাস দেশে অবস্থান করে তিনিও লন্ডন চলে যান। সুজিনার মামা মামলার বাদি আব্দুন নূরের অভিযোগ-পথের কাঁটা দূর করতেই সুজিনাকে হত্যা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যার পর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মৃত হাজী আবদুর রউফের বাড়িতে (নিজ প্রিত্রালয়ে) আত্মীয়বেশী ঘাতকদের হাতে খুন হন সুজিনা। এসময় গুরুত্বর আহত হন সুজিনার মা রেজিয়া বেগম (৪৫) ও ছোট ভাই জহির উদ্দিন (১২)।


