ওসমানীনগরে এক বছরেও ছাত্রদলের কমিটি হয়নি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং, ৩:২৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২২১ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি::সম্মেলনের ১০ মাস হয়ে গেলেও পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির। দীর্ঘ দিন থেকে পুর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ওসমানীনগর উপজেলায় বিএনপির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেথা দিয়েছে। সম্মেলনের পর থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনসহ স্থানীয় ভাবে বিএনপির দলীয় কার্যক্রম তেমন গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মিরা স্বীকার করেছেন পুর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় দলীয় কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পুর্ণাঙ্গ কমিটি হবার পর সেটা কাটিয়ে যাবে। সম্মেলনের ১০ মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কেন উপজেলা বিএনপির পুর্ণাঙ্গ কমিটি হলো না এব্যাপারে জানতে বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীল নেতাসহ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বিগত দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমান সভাপতি সৈয়দ মোতাহির আলী প্রবাসে ভ্রমনে থাকা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মানিকের ওপর মামলাসহ বিভিন্ন কারণে উপজেলা বিএনপির পুর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বিলম্ব হয়েছে। শীঘ্রই বিএনপির পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে তারা জানান।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর উপজেলার দয়ামীরে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় উপলোর ৮ ইউপির মধ্যে প্রতিটি ইউপি থেকে তিনজন করে মোট ২৪জন ভোটারের ভোটের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীপতœী তাহশিনা রশদি লুনা ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচনে ১৭ ভোট পেয়ে সাবেক সভাপতি উছমানপুর ইউপির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোতহির আলী সভাপতি, ১৩ ভোট পেয়ে গোয়ালাবাজার ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ ভোট পেয়ে শাহ এহিয়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ এহিয়া বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে ইতিপূর্বে উপজেলা বিএনপির পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগিরই সবাই বসে দলের পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবো।
এদিকে, উপজেলা ছাত্র দলের কমিটি নেই এক বছর ধরে। ছাত্রদলে কোন্দল ও কমিটি না থাকার কারণে ছাত্রদলের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে ওসমানীনগরে ছাত্রদলের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখা যাচ্ছে না। ওসমানীনগরসহ সিলেট বিভাগের বিএনপির কান্ডারি এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর এ উপজেলায় ছাত্রদলের কার্যক্রম কিছুটা বেগবান হয়। কিন্তুু সিলেট জেলা ছাত্র দলের নতুন কমিটি গঠনের পর ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির পর এ উপজেলায় ছাত্রদলের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।
২০১১ সালের ১৬ মে নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী সিলেট উপশহরস্থ তার বাস বভনে বসে ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মোফাজ্জল আলীকে আহ্বায়ক ও ৩১ জন যুগ্ম আহ্বায়কসহ ১শ ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্র দলের কমিটি গঠন করে দেন।
মোফাজ্জলকে আহ্বায়ক করায় পদ বঞ্চিত সাবেক ছাত্র নেতা সৈয়দ এনায়েতের অনুসারি সমর আলী আকবরসহ কয়েকজন ছাত্র দল নেতা ২০১৩ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্টানে তাজপুর খান সেন্টারে মোফাজ্জলের ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করে। এরপর থেকে ছাত্রদলের মধ্যে শুর হয় প্রকাশ্যে কোন্দল।
তাজপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ বলেন, ছাত্রদলের মধ্যে কিছু অছাত্র রয়েছে। প্রকৃত ছাত্ররা ছাত্রদলে স্থান পায় না। অছাত্ররা ছাত্রদলের কমিটির পদকে গ্রাস করে রেখেছে।
উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর আহমদ রোমন বলেন, ছাত্রদলের কমিটি না থাকায় নেতৃত্ব শূন্যতায় দলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। হামলা মামলাসহ সিনিয়র নেতাদের দলের দুঃসময়ে কাছে পাওয়া যায় না। নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি।


