বিশ্বনাথে সকালের সবজির হাট!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১৭১ বার পঠিত

জামাল মিয়া:: ভোর তখন ৬টা চারিদিকে প্রচন্ড কুয়াশা আর হাঁড় কাপানো শীত। এসব হাঁড় কাপানো শীত ধমিয়ে রাখতে পারেনি সিলেটের বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়নের সবজি চাষীদের। ভোর থেকেই সবজি ভর্তি ভ্যান গাড়ি নিয়ে হাজির স্থানীয় মুফতির বাজারে সবজি গুলো বিক্রির জন্য। চারিদিকে সবজি আর সবজি এ যেন সবজি চাষীদের এক মহান মিলনমেলা। এসব উৎপাদিত সবজিগুলোর মধ্যে রয়েছে মূলা, শিম, বাঁধাকপি, টমেটো,লাল শাক, শশা,আলু ইত্যাদি।
ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকে সবজি চাষীরা এসব সবজি গুলো নিয়ে আসেন। প্রতিদিন ভোর থেকেই দুপুর পর্যন্ত মুফতির বাজারে বসে এই শীতকালীন সবজির হাট। কার্যত শীতকালে সুরমা নদীর পানি শুকিয়ে যায়। জেগে উঠে বিশাল চর। খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর চরে শাক-সবজি চাষ করে সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় কৃষক। এই সবজিগুলো উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ছাড়াও সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার,বিয়ানীবাজার,জকিগঞ্জ,এলাকাসহ আরো কয়েকটি উপজেলায় বিক্রি হয়। এসমব সবজি চাষিরা প্রতিদিন উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের মুফতির বাজার সকালে সবজি নিয়ে আসেন। বিশ্বনাথের সব চেয়ে বড় সবজির বাজার হিসেবে পরিচত মুফতির বাজার। এ বাজার থেকে প্রতিদিন সকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সবজি রপ্তানি হয়। মুফতির বাজার সড়কের বেহাল দশা থাকায় ঝুকি নিয়ে যানবাহান চলাচল করে আসছে।
সবজি চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে জানাযায়, একটি টমেটো গাছে ৩০-৩৫ টাকা খরচ হয়। আর প্রতি টমেটো গাছ থেকে পাওয়া যায় ৫-১০ কেজি টমেটো। মৌসুমের শুরুতে সবজি বিক্রি শুরু করতে পারায় খরচ পুষিয়ে গত বছরের চেয়েও বেশি টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন সবজি চাষিরা। চাষকৃত এসব সবজি সিলেট নগরীর বিভিন্ন আড়তে পাইকারি দরে বিক্রি হয়। অনেক সময় পাইকারি ব্যবসায়ীরা টাটকা সবজি কিনতে সরাসরি ক্ষেতে চলে যান। স্থানীয় বাজারে এ সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কীটনাশকমুক্ত ও সার কম থাকায় সিলেটের বাইরের সবজি থেকে স্থানীয় এ সবজি সুস্বাদু।
হোসেনপুর গ্রামের মুস্তাক আহমদ মস্তফা বলেন, আমাদের এলাকায় প্রতি বছর প্রচুর সবজি চাষাবাদ হয়ে থাকে। প্রতিদিন স্থানীয় মুফতির বাজার সবজি চাষিরা সবজি এনে বিক্রি করেন। তবে মুফতির বাজার সড়কের বেহাল দশা থাকায় এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগ পুহাতে হচ্ছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আলীনূর রহমান বলেন, উপজেলায় এবছর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে শীত কালিন সবজি চাষাবাদ হয়েছে। এতে ভালন ফলনও হয়েছে বলে তিনি জানান।


