বালাগঞ্জে ছফা’র মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলা দায়ের
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৭৫৯ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি::সিলেটের বালাগঞ্জে ছফা মিয়া (৩৬) এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের খালাতো ভাই সোহেল মিয়া বাদি হয়ে সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৭ জানুয়ারী মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-৫/১৬। আদালত মামলাটি ৩০২ ধারায় আমলে নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বালাগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। মামলায় আসামীরা হচ্ছেন, বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর খারমাপুর গ্রামের শাহ দিলা মিয়া (৪০), শাহ এজহার আলী (৪৫),রেহানা খাতুন (৩৩), জাহির আলী (৩৫),পপি বেগম (৪০),হবিগঞ্জ জেলার লাকাই থানার মোরাকরি গ্রামের মাহফুজ মিয়া (৪২)।
মামলার বিবরনে জানা যায়, উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়নের খারমাপুর গ্রামের ছফা মিয়া নিকটআত্বীয় একই গ্রামের শাহ এজহার আলী বড় ভাইয়ের বাড়ির কেয়ার টেকারের দ্বায়িত্ব পালন করতেন। এরই জের ধরে এজাহার আলী ও তাঁর ভাই শাহ দিলা মিয়া কিপ্ত হয়ে নিঃসন্তান ছফা মিয়াকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এ পর্যায়ে দিলা মিয়া গংরা গ্রামের জাহির আলীকে দিয়ে ছফা মিয়ার স্ত্রী রেহানা বেগমকে কৌশলে ম্যানেজ করে নেয়। ঘটনার আগের দিন রেহানার পিতার বাড়ির নিকটআত্বীয় হবিগঞ্জের মোড়াকরি গ্রামের মাহফুজ উরপে খুনি মাহফুজকে দিলা মিয়ার বাড়িতে এনে রাখেন। ঘটনার দিন ১৮ ডিসেম্বর সকালে পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী দিলা ও তাদের সহযোগিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ছফা মিয়াকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারপিট করতে শুরু করলেও এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারা হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন। তাৎক্ষনিক দিলা মিয়া বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে সফা মিয়াকে সিলেট একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করলেও মাথায় আঘাতজনিত করনে সফা মিয়ার অবস্থার অবনতি ঘটে। রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিলেট ওসমানী হাসপাতালে রেফার্ট করে। সিলেট ওসমানী হাসপাতালে দীর্ঘ এক সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ২৪ ডিসেম্বর হাসপাতালে সফা মিয়ার মৃত্যু হয়। ছফা মিয়ার সাথে থাকা অভিযুক্ত এজহার আলী অভিবাবক সেজে হাসপাতাল থেকে লাশটি গ্রহন করেন। এ দিকে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বোন পিয়ারা বেগমসহ অন্যান্য আত্বীয়-স্বজনরা বাড়িতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং রেহানা বেগমের কাছে ছফা মিয়ার অকাল মৃত্যুর কারন জানতে চান। এসময় রেহানা বেগম নানা টালবাহানাসহ হাসপাতালের ছফার মিয়ার চিকিৎসা সক্রান্ত কাগজ-পত্র নিয়ে লোকুচুরি করতে শুরু করেন। এ পর্যায়ে নিহতের খালাতো ভাই মামলার বাদি সোহেল মিয়া বালাগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে বিকালে থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহতের আত্বীয়-স্বজনদের অভিযোগ থাকা অবস্থায় বিনা ময়না তদন্তে লাশটির দাফন সম্পূন্ন করে নিহতের বোন পিয়ারা বেগমসহ অনান্য আত্বীয়-স্বজনের জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেন অভিযুক্তরা। অবশেষে এব্যাপারে নিকটআত্বীয় সোহেল মিয়া বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার আদালত কর্তৃক সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,তদন্তপূর্বক এ ব্যাপারে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।


