মানবেতর জীবন যাপন করছেন জেলা পরিষদের মাষ্টাররোল কর্মচারীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯০৪ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু:: পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদের কর্মচারীরা। অল্প বেতনে চাকুরী করে জীবন চলছে না তাদের। জেলা পরিষদে মাষ্ঠাররোল কর্মচারীদের চাকুরী নিয়মিত করার দাবীতে সরকারের কাছে জোরদাবী জানিয়েছেন নিয়োজিত কর্মচারীরা। চাকুরী স্থায়ী করার দাবিতে ইতিমধ্যে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সচিব, অর্থ মন্ত্রনালয়, শ্রম মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে নিভিতভাবে তাদের দাবির কথা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দাবিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা পরিষদের মালিকানাধিন ডাকবাংলো, রেস্টহাউজ, অডিটরিয়াম, লাইব্রেরী এবং জেলা পরিষদ অফিসে দারোয়ান কাম কেয়ারটেকার, এম,এল,এস ও অন্যান্য ৪র্থ শ্রেণীর পদে দীর্ঘদিন ধরে মাষ্টাররোল অর্থ্যাৎ দৈনিক মুজুরী ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন।
সার্কুলার অনুযায়ী বিভিন্ন সময় জেলা পরিষদে নিয়োগ করা হয় এবং বেতন দৈনিক মুজুরী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। অনেক লোক দীর্ঘ ২৫ বছর ও সর্বনিম্ম ২ বছর ধরে কম বেতনে চাকুরী করে আসছেন। অল্প বেতন দিয়ে কোন ভাবেই তাদের পরিবারের ভরণ পোষন করা সম্ভব হচ্ছেনা। বর্তমান দব্যমূল্যের বাজারে ১৮০ টাকা মুজুরী দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে তাদের। দারোয়ান কাম কেয়ারটেকারসহ সব চাকুরীজীবি ২৪ ঘন্টা ডাকবাংলোয় কাজ করতে হয়। অতিরিক্ত আয় রোজগারের ও কোন সুযোগ নেই ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওই সব পরিবারের লোকজন। বর্তমানে দেশে একজন সাধারণ দিনমজুরের বেতন মাসে কমপক্ষে ১০-১২ হাজার টাকা হয়। ১৮০ টাকা হিসেবে একজন মাষ্টাররোল কর্মচারী মাসে মাত্র ৫ হাজার ৪ শত টাকা পেয়ে চলা মুশকিল হয়ে পড়েছে।
বর্তমান জনবান্ধব সরকার বাংলাদেশে সরকারী কর্মচারীদের সর্বনিম্ম বেতন স্কেল নির্ধারণ করেছেন ৮ হাজার ২ শত ৫০ টাকা ভাতাসহ সর্বসাকুল্যে কমপক্ষে ১৩-১৪ হাজার টাকা একজন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ভাতা বেতন পান। একজন নিয়মিত কর্মচারীদের মত নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত জেলা পরিষদের কর্মচারীরা।
জেলা পরিষদ কর্মকর্তা/ কর্মচারী চাকুরী বিধিমালা ১৯৯০ সালে ডাকবাংলো দারোয়ান কাম কেয়ারটেকার পদটি ভুলবশত অর্ন্তভুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে উক্ত পদটি অর্ন্তভুক্ত করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে অনুমোদিত হয়ে বর্তমানে অর্থ মন্ত্রনালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী গণ্যক্রমে তাদের দীর্ঘদিনের চাকুরী করার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত দারোয়ান কাম কেয়ারটেকার ও এম,এল,এস এবং অন্যান্য ৪র্থ শ্রেণীর মাষ্ঠাররোলে নিয়োজিত কর্মচারীদেরকে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে নিয়মিত করা হয়েছে।
জনবান্ধব সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন বর্তমান বেতন স্কেলের অর্ন্তভুক্ত করে মাষ্ঠাররোলে নিয়োজিত কর্মচারীদের পূর্বের ন্যায় নিয়মিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোরদাবী জানান জেলা পরিষদের নিয়োজিত কর্মচারীরা।


