বিশ্বনাথে ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যা হচ্ছে—!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ১২:৫১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৪৮৮ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: বিশ্বনাথে এখনও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন-তারিখ ঠিক হয়নি। তবে আগামী এপ্রিল মাসে হতে পারে বিশ্বনাথে ইউপি নির্বাচন। এমটাই ধারনা করছেন এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আর আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা। উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় সরব হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কুশল বিনিময় করছেন তারা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন কিংবা দানখয়রাতের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগাম বার্তা দিচ্ছেন। এই প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতিকে নির্বাচন হওয়ায় এলাকার শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরও কদর কয়েকগুন বেড়ে গেছে। প্রার্থীরা ওইসব নেতাদের দরজায় প্রতিদিন নক করছেন। প্রার্থীদের কাছে যেন নেতারা এখনও সোনার হরিণ? প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচত বিশ্বনাথ। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রবাসী প্রার্থীরাও বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে অংশ নিতে দেশে আসতে শুরু করছেন অনেক প্রবাসী। আবার প্রবাসে থেকে অনেকেই খোঁজ নিচ্ছে কবে হবে উপজেলায় ইউপি নির্বাচন। ফোনের মাধ্যমে দেশে থাকা আত্বীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। কেউ কেউ প্রবাসে থেকে নিজের নামে এলাকায় খেলাধুলার ডাকও দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের দৌড় ঝাপ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিদিন নিজনিজ এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে আসছেন। পাশাপাশি ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় খেলাধুলা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গত দশ বছরে এলাকায় যেসব খেলা তেমন দেখা যায়নি, এখন এসব খেলা সরব হয়ে উঠেছে। আর এ খেলা হল রশি টান। প্রতি সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় এ খেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বেশিরভাগ খেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই খেলার পুরস্কার দাতা হচ্ছে। এ খেলার পাশাপাশি মিনি দিবা-রাত্রি ফুটবল, ক্রিকেট,ব্যাটমিন্টন খেলার সংখ্যাও বেড়ে গেছে। এসব খেলার বেশিভাগ অর্থদাতারা হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তবে এবারের ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের কোনো প্রতিক না থাকায় স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে বলে জানাগেছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা জনগণের কাছাকাছি পৌঁছাতে চান। দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও তাদের সঙ্গে আছেন। এসব অনুষ্ঠানে আগাম প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কর্মীদের মাঠে নামারও পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দলীয় নেতাদের ছবিসংবলিত পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা ও কর্মীর নামে এসব পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রচারপত্রের মাধ্যমে নিজেদের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের এসব তৎপরতা প্রসঙ্গে উপজেলার নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেই, নির্বাচনী আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলার আটটি ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়নে প্রধান দুটি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ ও বিবাদ মেটানো এবং যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ওপর নির্ভর করছে জয়-পরাজয়। সব কটি ইউনিয়নে উভয় দলের ভেতরে দ্বন্ধ আছে, যার নেতিবাচক প্রভাব ভোটের ফলাফলের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি অনেকটা আগেভাগেই নির্বাচন মাঠ গরম করে রেখেছে। স্থানীয় এমপি জাতীয় পার্টির হওয়ায় নেতাকর্মীর মধ্যে প্রাণঞ্জলতা বেড়ে গেছে। উপজেলায় জাতীয় পার্টি নেতারা আগাম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাপা নেতা ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া লাঙ্গন প্রতিকে ভোট চাইতে শুরু করেছেন।
এলাকার রাজনীতিক নেতারা জানান, এই প্রথম বারের মতো ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার ফলে দলীয় প্রার্থী তৃণমূল নেতাকর্মীর মতামতের ভিত্তিত্বে করা হবে। দলের মনোনয়ন প্রাপ্ত ব্যক্তিদের পক্ষে নেতাকর্মীর কাজ করতে হবে। দল বিরোধী কেউ কাজ করলে তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৌলতপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমির আলী বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহন করব। আশাকরি দলীয় মনোনয়ন পাব। ‘রাজনীতি করি জনগণের জন্য। আর নির্বাচনে জয়ী হতে পারলেই তো জনগণের জন্য আবারও কিছু করার সুযোগ পাব।’
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লামাকাজি ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় কাজ করে আসছি। এবারও দলীয় মনোনয়ন পেলে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাঁধা নেই। তিনি আশাবাদি দলের মনোনয়ন পাবেন।
উপজেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সিতাব আলী বলেন, এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতিকে হবে, তাই দলীয়ভাবে প্রার্থী দেয়া হবে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উপজেলায় জাতীয় পার্টি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী ইতিমধ্যে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিমিয়ন সভা করেছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণঞ্জলতা ফিরে এসেছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল কাইয়ুম বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় কোনো প্রতিক না থাকায় যারা দলের স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন, তাদের পক্ষে দলের নেতারা নির্বাচনী কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, দলীয় ভাবে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়া হবে। ইতিমধ্যে যারা প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছুক তাদের নাম সংগ্রহ কাজ চলছে। তৃণমুল নেতাকর্মীর মতামতের ভিত্তিত্বে প্রার্থী চাছাই করা হবে। ফের তিনি ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন কি জানতে চাইলে, এবিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান। তবে দলে কোনো বিরোধ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, তৃণমুল নেতাকর্মীরা যাকে চাছাই করবেন তারাই নৌকা প্রতিক পাবেন। এতে কারাও দ্বিধা-দ্বন্ধ থাকবেনা। বিষয়টি তৃণমুল নেতাকার্মীরাও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিশাল একটি দল। দলের নেতাকর্মীরদের স্বাভাবিক মতপ্রার্থক্য থাকতে পারে। তবে দলে কোনো কোন্দল নেই বলে তিনি জানান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব পংকি খান বলেন, দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শ এবং জেলা আওয়ামীলীগের নিদের্শে উপজেলায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী চাছাই করা হবে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীর মতামতের ভিত্তিত্বে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়ন প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।


