বিশ্বনাথে সংবাদ সম্মেলনে তৌহিদী জনতার নেতারা যা বললেন
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ২:৩০ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯৯৩৫ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে তৌহিদী জনতা (কওমী) উলামায়ের কেরামের ব্যানের সোমবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আবদুর রহমান, তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন। সত্য ও ন্যায়ের প্রতিক। সত্যকে সত্য বলেন, মিথ্যাকে মিথ্যা বলেন। সত্য ও ন্যায় সমাজে তুলে ধরেন। বিশ্বনাথ উপজেলার বাগিচা বাজারে মিলাদ ও কিয়াম নিয়ে বাহাছ শেষ পর্যন্ত দেখা মিলেনি ওহাবীদের শিরোনামে গত শনিবার দুটি পত্রিকায় মিলাদে কিয়াম বিরোধীদের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা শিরোনামে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ধর্মীও উত্তেজনা ও ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি প্রতিকারের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মিথ্যা তথ্যদিয়ে সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।
আলবালাগ তাফসীরুল কোরআন পরিষদ বাগিছা বাজার বিশ্বনাথের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রদত্ত বক্তব্যকে বিকৃত করে তথা কথিত সুন্নি নামধারীরা মাহফিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির করার পায়তারা করে। এক পর্যায়ে তাফসীরের আয়োজকদের মধ্য থেকে ছালিক মিয়াকে চাপ সৃষ্টি করে তাহার দ্বারা মাহফিলের মাইকে ১৯/০২/২০১৬ইং তারিখে বাহাছের ঘোষনা দেওয়া হয়। তারপর তাফসীর আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাহাছের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বনাথ থানায় আবেদন করা হলে পুলিশ প্রশাসন বাহাছের অনুমিত দেয় নাই।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, নামধারী সুন্নীদের পক্ষ থেকে বাহাছের দাওয়াত সম্বলিত লিপলেট বিতরণ দেখে স্থানীয় ক্বওমী উলামাগণের পক্ষ হতে মাওলানা মুফতি রশীদ আহমদ ও মাও: আনহার উদ্দিনের আহবানে বাগিছা বাজার সংলগ্ন মাঠে ১৯ ফেব্রুয়ারী ২টায় ঈমান ও আক্বিদা বিনষ্টকারী এবং সমাজে চরম উত্তেজনা ও হানাহানি অপ্রপ্রচারের বিরুদ্ধে এক জরুরি প্রতিবাদ সভার আহবান করা হয় এবং মাইকিং সহ প্রচারনা চালানো হয়। ঐ প্রতিবাদ সভার পরামর্শের জন্য ১৯ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার স্থানীয় ময়নাগঞ্জ বাজারে ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী সমবেত হয়ে আলোচনা করতে থাকেন। ঐ দিন সকাল ১১ ঘটিকার সময় সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, বিশ্বনাথ আওয়ামীলীগের সভাপতি পংকি খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, বিশ্বনাথ থানার ওসি আব্দুল হাইসহ স্থানীয় ময়নাগঞ্জ বাজারে পরামর্শ সভায় উপস্থিত হয়ে কওমী উলামাদেরকে বলেন, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আপনারা বাগিছা বাজারে যাবেন না। সেখানে কোন বাহাছ নাই। তাদেরকে শুধু মিলাদ মাহফিলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেখানে কোন বিতর্কিত বিষয় আলোচনা হবে না।
তিনি আরোও বলেন, বাহাছ এভাবে হয় না, বাহাছের জন্য প্রশাসন থেকে পূর্ন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। এভাবে বাহাছ হলে শান্তি শৃঙ্খলা বিগ্নিত হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত উলামায়ে কেরামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দে ও প্রশাসনের আশ্বাসে সরল বিশ্বাসে কর্মসূচী স্থগিত ঘোষনা করি।
লিখিত বক্তব্য আরও বলা হয়, বাহাছের জন্য বিষয় বস্তু নির্ধারণ করে উভয়পক্ষের উলামাদের স্বাক্ষরসহ প্রশাসনের অনুমতি একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু এখানেতো সুন্নী ও কৌওমি উলামায়ে কেরাম কোন স্বাক্ষরকৃত কাগজপত্রও ছিলনা। কিভাবে উহাকে বাহাছ নামে ও দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা শিরোনামে সংবাদ প্রচার করা হয়। কিন্তু কতিথ ভন্ড সুন্নী নামধারীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে কিভাবে সংবাদ প্রকাশ করে? মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। সঠিক তথ্য প্রেরণে করে সংবাদ প্রকাশের জন্য জাতির বিবেক সাংবাদিক বন্ধুদের অনুরোধ জানান।
পূর্ব ঘোষনা স্থগিত করা সত্ত্বেও যখন শোনাগেল তথাকথিত সুন্নী নামধারীরা মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তখন উপস্থিত বিক্ষোব্ধ জনতা আবারও ময়নাগঞ্জ থেকে বাগিছা বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পুলিশ তৌহিদী জনতাকে আটকে দেয়। পরবর্তীতে আমরা তৌহিদি জনতাকে শান্ত ও বাড়ীতে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করি এবং যার যার অবস্থানে ফিরে যান। পরে দিন আমরা স্থানীয় ও জাতীয় দুটি পত্রিকায় দেখতে পাই বিশ্বনাথে মিলাদ কিয়াম নিয়ে বাহাছ শেষ পর্যন্ত দেখা মিলেনি ওহাবীদের শিরোনামে একটি সংবাদ। সংবাদে লেখা ছিল পূর্ব ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার বাদ জুম্মা বিশ্বনাথ বাগিচাবাজারে মিলাদ কিয়াম নিয়ে বাহাছ অনুষ্টিত হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাগিচা বাজরে সংলগ্ন মাঠে জমায়েত হতে থাকেন হাজার হাজার মুসলিম জনতা ও সুন্নীপন্থী আলেম উলামারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা মিলেনি মিলাদ কিয়াম বিরোধী ওহাবীদের। আরো লিখা ছিল ৩টার দিকে হঠাৎ মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পংকি খান, সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। সাবেক এই সংসদ বলেন, আমি গতকাল লন্ডন থেকে ফিরে এই ঘটনা শুনে বড়ই ব্যথিত হয়েছি। আমার কলিজ্বায় আঘাত লেগেছে। আমরা বিরোধীদের সাথে যোগাযোগ করে এসেছি। তারা তাদের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে মঞ্চে ঘোষনা করেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। এধরনের কথাবার্তা আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধূরীর সাথে আমাদের হয় নাই। আমরা দেশ ও বিশ্বনাথবাসীর শান্তি শৃঙ্খলার জন্য তাদের অনুরোধে প্রতিবাদ সভাটি স্থগিত করি। বিক্ষোব্ধ জনতাকে বাড়ীতে ফিরে যাওয়ার জন্য বলি। কিন্তু সুযোগ বুঝে আমাদের বিরুদ্ধে অপ্রপ্রচার ও মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে।
কথিত সুন্নী নামধারীরা সমাজে বিশৃঙ্খলার জন্য তারা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে এবং তাদের মিলাদ মাহফিলের ব্যানারে বাহাছের কোন উল্লে¬খও ছিলনা। আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধূরী ও প্রশাসনসহ সবাইকে অপমাণিত ও প্রতারিত করেছে। আমরা কথিত সুন্নী নামধারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
আমরা কওমী উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে দীপ্ত কন্ঠে ঘোষনা করছি যে, শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে বাহাছের ব্যবস্থা হলে যে কোন সময় বাহাছের জন্য এবং নামধারী সুন্নী বেদ-আতীদের মুখোশ উম্মোচন করে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছি। তৌহিদী জনতার প্রতি বেদ্আতিদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশ্বনাথ তথা সিলেটবাসীকে উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। এবং যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা নূরুল হক, মাওলানা কবির উদ্দিন, মাওলানা আবদুর রহমান, মাওলানা আনহার উদ্দিন, ফয়জুর রহমান, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, ছালিক মেম্বার, মাওলানা হাফিজ উদ্দিন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মো. শানুর হক, আবদুর রহমান, আবু রাউফি চৌধুরী, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি জয়নাল আবেদিন, মাওলানা মনসুর আহমদ, মাওলানা মোশাহিদ, মাওলানা রাসেল আহমদ, এহিয়া প্রমুখ।


