বিশ্বনাথে অটোরিকশা শূণ্য যাত্রীরা বিপাকে
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ আগস্ট ২০১৫ ইং, ২:৩১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৪২৭ বার পঠিত
জামাল মিয়া ও আবুল কাশেম:: বিশ্বনাথে অটোরিকশা শূণ্য রয়েছে। রোববার সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত উপজেলার কোথাও অটোরিকশা গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়নি। ফলে যাত্রীদের পুহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। সকাল থেকে যাত্রীরা অটোরিকশা না পেয়ে পড়েছে বিপাকে। তবে উপজেলায় অটোরিকশা ছাড়া বাকি সব যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।
রোববার সকাল ৯টায় থেকে উপজেলার অটোরিকশা শ্রমিকরা গাড়ি নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বিশ্বনাথের সীমান্তবর্তি এলাকা রশিদপুর পয়েন্ট অবস্থান কর্মসূচী পালন শুরু করে। সেখানে শ্রমিকরা দফায় দফায় মহাসড়কের পাশে দাড়িয়ে বিক্ষোভ করে। ওই কর্মসূচিতে বিশ্বনাথ আল-হেরা শপিং সিটির সামনের ষ্ট্যান্ড, থানার সামনের ষ্ট্যান্ড, নতুনবাজার রামপাশা-লামাকাজী ষ্ট্যান্ড, কোর্ট পয়েন্টের ষ্ট্যান্ড, সিঙ্গেরকাছ, বৈরাগী, কালিগঞ্জ, পীরেরবাজার, বাগিচাবাজার, মিয়ারবাজার ও নাজিরবাজার’সহ বেশ কয়েকটি ষ্ট্যান্ডের অটোরিকশা নিয়ে শ্রমিকরা অংশগ্রহন করে। সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছাড়া দুরপালল্লার যাত্রীবাহী বাস ট্রাক ও মাইক্রো’সহ সবধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। সকাল ১১টায় রশিদপুর পয়েন্টে একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে শ্রমিকরা এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, তাদের দাবি না মানলে আগামীতে মাথায় কাপনের কাপড় বেঁধে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ও এবাদুল খাঁন’র পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের (৭০৭) এর সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া, সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া, শ্রমিক নেতা ময়না মিয়া, আজব আলী, আব্দুল আহাদ, আনসার আলী, সাঈদ আলী, আইয়ুব আলী, আনসার আলী, তজম্মুল আলী, নুরুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, রহিম আলী, রফিক মিয়া, সাদ উদ্দিন, দরছ মিয়া, রিয়ান আলী প্রমূখ। এরিপোর্ট বেলা আড়াইটায় লেখা পর্যন্ত রশিদপুর পয়েন্টে অটোরিকশা শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানাগেছে।
এদিকে, মহাসড়কে অটোরিকশা নিষিদ্ধ এর প্রতিবাদে সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন গতকাল রোববার থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়।
জানাগেছে, অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে রোববার থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হয়েছে। অটোরিকশা শ্রমিকরা গাড়ি নিয়ে সকাল থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান করেন। ফলে উপজেলায় অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে উপজেলার কোথাও অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়নি। ফলে যাত্রীদের পুহাতে হচ্ছে দূর্ভোগ। অনেকেই ধর্মঘটের কারণে জরুরী কাজ ছাড়া বাসা-বাড়ি থেকে বের হননি। তবে অন্য যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। উপজেলাবাসীকে সিলেট শহর কিংবা এক ইউনিয়নবাসীকে অন্য ইউনিয়নে যেতে দূর্ভোগ পুহাতে হয়। উপজেলা সদরের বেশ কয়েকটি ব্যাটারী চালিত রিকশা চলাচল করলেও রোববার সকাল থেকে ওই রিকশাগুলো রাস্তায় তেমন দেখা যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পায়ে হেটে চলাচল করতে দেখা যায়।
উপজেলার দশঘর গ্রামের শিপন মিয়া বলেন,এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় লকাল বাসের সংখ্যা খুবই কম। তাই উপজেলার বাসিন্দাদের চলাচলে সিএনজির চালিত অটোরিকশাই একমাত্র ভরসা। গতকাল রোববার থেকে অটোরিকশা না থাকায় মানুষ প্রায় গৃহবন্দী হয়ে আছে।
একাধিক চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকা মহাসড়ক সংলগ্ন এ ক্ষেত্রে আমরা গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে হলেও মহাসড়ক ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। অন্য দিকে অটোরিকশা গুলো সিএনজি চালিত হওয়ায় গ্যাসের জন্য মহাসড়ক হয়ে সিলেট জেলা শহরে যেতে হয়।
মহাসড়কে অটোরিকশা নিষিদ্ধ হলে এ উপজেলার প্রায় এক হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা বন্ধ করে রাখতে হবে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে উপজেলার প্রায় হাজার অটোরিকশা চালকদের।
সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (৭০৭) এর সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ইতিমধ্যে আমরা নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত স্বারক লিপি প্রদান করেছি। আমাদের দাবী না মানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালিত হবে বলে তিনি জানান।


