বিশ্বনাথে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের নিরব প্রচার-প্রচারণা সরগরম হচ্ছে মাঠ
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুলাই ২০১৫ ইং, ১২:০৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২৪২৪ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় ২ বছর পর আসছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আসার আগেই বিশ্বনাথ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের নিরব প্রচার-প্রচারণা। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় আগাম নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করেছেন বিভিন্নভাবে। তারা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্টানে অনেকটা নিরবে নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে সমাজের বিভিন্ন কল্যাণের কাজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণার কাজ। নির্বাচনী তারিখ এখনও নির্ধারণ হয়নি। তারপরও বিশ্বনাথ উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের নাম শুনা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিশ্বনাথ উপজেলার আট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।
চলিত বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিচ্চেন উপজেলার আট ইউনিয়নের অনেকেই। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীরা শুরু করেছেন দৌড়ঝাপ। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাপা, জামায়াত থেকে প্রার্থী হবেন অনেকেই এমটাই ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রার্থী হতে প্রবাস থেকে দেশে আসছেন অনেক প্রবাসীও। তবে এখনও বলা মুশকিল কারা হচ্ছেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীরা অংশ গ্রহন করবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে,চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এলাকার ভোটাদের কাছে তাদের প্রার্থীতা হওয়ার খবরও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। উপজেলা সর্বত্রই এখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নির্বাচনে এক প্রার্থীকে সমর্থন দিতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থী হতে আগ্রহী অনেকেই জানিয়েছেন তারা নিজ নিজ দলের সমর্থন পেলে নির্বাচনে অংশ নিবেন।
জানাযায়,আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্ততি নিয়ে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগাম প্রস্ততি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এ ক্ষেত্রে নভম্বের বা ডিসেম্বরে এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ২৬১ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে সারাদেশে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে ইসি। স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, মামলাসহ সব ধরনের জটিলতা দূর করে এ নির্বাচন দেওয়া হবে। ২০১১ সালের মার্চে শুরু হয়ে জুনের মধ্যে সম্পন্ন হয় চার হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এ বলা আছে, পরিষদ গঠনের জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন ওই পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের (ছয় মাস) মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। অতএব ২০১১ সালের মার্চে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো এ বছরের অক্টোবরের পর নির্বাচন উপযোগী হবে। আর বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে করা যাবে।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা ছয়ফুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান আসাদ, বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুহাম্মদ ইমাদ উদ্দিন, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আবদুল হাই, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত আলী জাহান,বিশ্বনাথ উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ,প্রবাসী মিছবাহ উদ্দিন।
লামাকাজী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক স¤পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া, প্রবাসী আলী হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী রইছ আলী, আ.লীগ নেতা আবুল খয়ের লাল মিয়া।
খাজাঞ্চী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও বর্তমান চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রজব আলী, উপজেলা আ’লীগ নেতা কবির হোসেন কুব্বার, খাজাঞ্চি ইউপি আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শংকর দাশ, বিএনপি নেতা আখলিছ আলী সরকার।
অলংকারী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান লিলু মিয়া, বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম রুহেল, ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকসিত আক্তার, ইউপি আ.লীগের সভাপতি আরশ আলী।
রামপাশা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার খান, আ.লীগ নেতা আজিজুর রহমান, সিলেট শ্রমিককল্যান ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক বশির আহমদ, বিএনপি নেতা খছরুজ্জামান খছরু, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর।
দৌলতপুর ইউনিয়ন ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরান চেয়ারম্যান ও ইউপি বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী,বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আমির আলী, সাবেক চেয়ারম্যান ও জাপা নেতা মোশাররফ হোসেন, জামায়াত নেতা বাবুল মিয়া মাষ্টার, আওয়ামীলীগ নেতা আছাব উদ্দিন, প্রবাসী শামসু মিয়া, আবুল কালাম খান।
দেওকলস ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- বন চেয়ারম্যান ও ইউপি বিএনপির সভাপতি তাহিদ মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মতছিন, ইউপি আ.লীগ সভাপতি আবদুল মুমিন, সাবেক চেয়ারম্যান ছত্তার মিয়ার পুত্র আবুল হাসানাত।
দশঘর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-উপজেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিক উদ্দিন আহমদ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা হাবিবুর রহমান ছাতির, বিএনপি নেতা আবুল হোসেন। শেষ মুহুর্তে এই প্রার্থী তালিকা আরো দীর্ঘ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।


